
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক কলেজছাত্রী নিখোঁজের ১২ দিন পার হলেও তার সন্ধান মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী এক যুবক তাকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। অভিযুক্তদের ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও যাতায়াত থাকায় মেয়েটিকে সীমান্ত পার করে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।
নিখোঁজ শারমিন আক্তার (১৭) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের বামুনিয়া গ্রামের পশিরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি লাহিড়ী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরিবারের দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে প্রতিবেশী রমিক চন্দ্র সিংহ (২৩) মোবাইল ফোনে শারমিনকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দুই দিন পর শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রমিক চন্দ্র সিংহ, তার বাবা সুমন্ত চন্দ্র সিংহসহ পাঁচজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অপহরণ মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার ১০ দিন পার হলেও শারমিনকে উদ্ধার বা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়েকে যে কোনো মূল্যে উদ্ধার করে দিতে হবে। শুরুতে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে হয়তো এতদিন অপেক্ষা করতে হতো না।’
স্বজনদের দাবি, অভিযুক্তদের ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও শারমিনের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তাকে সীমান্ত পার করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি বলে জানান স্বজনরা। বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বৈশ্বানী রানী বলেন, রমিক বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তার বাবাও বাড়িতে নেই। তিনি শুধু বাড়িটি দেখাশোনা করছেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, পরিবার পুলিশকে কিছুটা দেরিতে বিষয়টি জানিয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণ মামলা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের লোকেশন শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শারমিনের ছবি দেখে কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।