1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অটোরিকশা নিতেই চালককে হত্যা, তিন বছর পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ নালিতাবাড়ীতে অঙ্গীকার ফাউন্ডেশন’র স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ফল গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই, মূলহোতা গ্রেপ্তার বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ

মালিঝি নদী খনন: সম্ভাবনাময় সত্বেও শঙ্কায় এলাকাবাসী

  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২০

মনিরুল ইসলাম মনির : নদীর নাব্যতা ফেরানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনে সরকারের সম্ভাবনাময় প্রকল্প হিসেবে খনন কাজ শুরু হয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মালিঝি নদীর খনন কাজ। তবে সম্ভবনার এ প্রকল্পে স্থানীয়দের অনেকেই শঙ্কাও করছেন নদীর ভবিষ্যত নিয়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকার কর্তৃক গৃহীত ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কোন্নগড় ভোগাই নদী ও মালিঝি নদীর মিলনস্থল থেকে কাপাশিয়া জোরা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খনন প্রকল্পে আগের গভীরতার চেয়ে এর গড় গভীরতা ধরা হয়েছে ১.২০ মিটার, তলদেশের প্রশস্ততা বা চওড়া ধরা হয়েছে ১৫ মিটার আর উপরে চওড়া ধরা হয়েছে স্থানভেদে ২২-৩০ মিটার। নদী তীরবর্তী বাঁধ কাম রাস্তা হওয়ার কথা রয়েছে ১৫ ফুট প্রশস্ত। এর প্রাক্কলিত মূল্য ২ কোটি ৫৯ লাখ ৫ হাজার ৯১৪ টাকা। তবে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ন্যাশনাল ইউনিট করপোরেশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পাউবো জামালপুরের তত্বাবধানে এর কার্যাদেশ প্রদান করা হয় গেল বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি। একই বছরের ৫ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩ মে এ কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে সার্ভে শেষে নানা কারণে গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোগাই-মালিঝি’র মিলনস্থল থেকে এর খনন কাজ শুরু করা হয়। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদে খনন কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পাউবো সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী থেকে বয়ে আসা মহারশি নদী থেকে মালিঝি নদীর উৎপত্তি। মালিঝি’র মোট দৈর্ঘ ২৪ কিলোমিটার। প্রথম পর্যায়ে ৮ কিলোমিটার খননের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে বাকী নদীপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কৃষিতে সমৃদ্ধি আনা এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

তবে সরেজমিনে গেলে পাওয়া গেছে এলাকাবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারও মতে, খননের ফলে নদীর দুই তীরে অবস্থিত নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অবহেলিত এ জনপদের দুইপাশের বাঁধটি যাতায়াতের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। নদীতে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়বে।
ধনাকুশা নদীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়ালসহ অনেকেই জানান, আমাদের এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন হয় না। একজন রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় যানবাহন পাওয়া যায় না। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও ভোগান্তিÍ পোহাতে হয়। নদী খননের ফলে দুই তীরে যে বাঁধ কাম রাস্তাটি তৈরি হবে তা এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুফল বয়ে আনবে। নদীর গভীরতা বাড়লে পানির ধারণ ক্ষমতাও বাড়বে। তবে তারা দুইপাশ থেকে সমান হারে প্রশস্ত করণের দাবী জানান।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, নদী খননের ফলে দুইপাশে থাকা আমাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও খননকৃত মাটি দুই তীরে রেখে দেওয়ায় সঠিকভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সামনের বর্ষা মৌসুমে নরম এ মাটি ঢলে পড়ে নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যা আগের চেয়ে খারাপ পরিণতি ডেকে আনবে।

একই গ্রামের কৃষক আক্কেল আলী জানান, নদীতীরে আমাদের গাছপালা কেটে রেকর্ডীয় সম্পত্তি নষ্ট করে খনন করা হচ্ছে। অথচ নদী খননের প্রয়োজন ছিল না। এমনিতেই ভোগাইয়ের কবলে আমাদের শত শত একর জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। মালিঝি খননের ফলে ভোগাইয়ের পাহাড়ি ঢল তীব্র বেগে মালিঝিতে প্রবেশ করে এ নদীও ভাঙ্গনের কবলে পড়বে। যে নদীতে কখনই ভাঙ্গন আতঙ্ক ছিল না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালক্রমে ভরাট হয়ে গেছে মালিঝি নদী। শুস্ক মৌসুমে খুব একটা পানি না থাকলেও বর্ষায় স্রোত থাকে যথেষ্ট। সময় ভেদে নদীর পানি প্রবাহ উভয় দিকেই প্রবাহিত হয়। পুরো বর্ষায় উজান থেকে ভাটিতে গিয়ে ভোগাইয়ে মিলিত হয় এর স্রোত। আবার ভোগাইয়ে পাহাড়ি ঢল নামলে উল্টোদিকে তীব্র বেগে স্রোত বয়। ফলে খননের পর নদীতীরে বাঁধের মতো রেখে দেওয়া মাটি ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে উল্টো বর্ষায় উত্তোলিত মাটি নদীগর্ভে মিশে সরকারের গৃহীত প্রকল্প ভেস্তে যাবে। ভোগান্তি বাড়বে দুই পারের বাসিন্দাদের। তবে দুই তীরের মাটি সংরক্ষণ করে বাঁধ কাম রাস্তা হিসেবে চলাচলের উপযোগী করলে সরকারের সম্ভাবনাময় প্রকল্পটি সুফল বয়ে আনবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড শেরপুরের উপসহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসাইন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ডেল্টা প্ল্যানের অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে নদীটি খননের পর দুইপাশের বাঁধ সংরক্ষণে ড্রেসিং করা হবে। এরপর পৃথক বরাদ্দে দরপত্র আহবান করে ঘাসের চাটাই বসিয়ে ও বৃক্ষ রোপন করে বাঁধটি সংরক্ষণ করা হবে। এতে করে নদীর দুই তীর সবুজায়নের পাশাপাশি নদী তীর ধ্বংস থেকে রক্ষা পাবে। একই সাথে যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হবে বাঁধটি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com