1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন

কলাপাড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণে অনিয়ম

  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ার ধূলাসার ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল ডিলারসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর তালিকা তৈরি, কার্ড বিতরণ, চাল বিতরণ, তদারকি, মাস্টার রোল িৈতী কোন কিছুতেই স্বচ্ছতার ছিটেফোটা নেই। তাই অধিকাংশ চালই বিতরন না হলেও কাগজে-কলমে ঠিকই বিতরণ করা হচ্ছে। আসলে বাস্তবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তালিকাভূক্ত অগনিত সুবিধাভোগী চাল না পাওয়ার অভিযোগ করছে বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে।
গত শনিবার দুপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মহিউদ্দীন খোকনের চাপলিবাজার দোকানে সরকারের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিনিধি, থানা পুলিশ ৪০ বস্তা চালের মজুদ পেয়েও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, ধূলাসারে ডিলার মহিউদ্দীন খোকন’র অধীনে ৭৩৮ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। এদের জন্য এপ্রিল মাসে ২২.১৪০ মেট্রিক টন চাল মজুদ করা হয়েছে। যা সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরন করার কথা।
এ বিষয়ে ডিলার মহিউদ্দীন খোকন বলেন, সুবিধাভোগীদের অনেকে সাগরে থাকায় বিতরণ করা যায়নি। ৩০ তারিখের মধ্যে বিতরন করে দেয়া হবে। ৯নং ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত কোন সুবিধাভোগীর কার্ড তার কাছে জমা নেই বলে জানান তিনি।
ধূলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গঙ্গামতি ৯নং ওয়ার্ডের সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী আনোয়ার মল্লিক অনেক দুঃখ নিয়ে ভারাক্রান্ত মনে বললেন, দুই বছর আগে একবার চাউল কিনতে পারছি। এরপরই ডিলার কার্ড রাইখ্যা দেছে, আর কার্ড দেয় নাই। চাউলও আর পাই নাই। খালি আমার না, আমাগো গ্রামের শাহজাহান গাজী, মোহাম্মদ গাজী, নিজাম হাওলাদার, তৈয়ব আলী, সাইদুল সর্দার, মন্নাফ সিকদার সবার কার্ড রাইখ্যা দেয় ডিলার। আমার মত তারাও চাউল পায় নাই।
এভাবেই একই ওয়ার্ডের সত্তার মোল্লা, ইউসুফ ফকির, জামাল কাজী, নুরসাইদ সিকদার, জাহাঙ্গীর সিকদার, জয়নাল সিকদারের কার্ড গ্রাম পুলিশ শহিদুল পরিষদের কাজে লাগার কথা বলে নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।
৮নং ওয়ার্ডের আনোয়ার ক¦ারী, রাজ্জাক ও সাদেকসহ বেশ ক’জনের কার্ডও তাদের হাতে নেই। বাস্তবে তারা সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল না পেলেও কাগজে কলমে তাদের চাল পাওয়ার বিষয়টি স্বচ্ছতার সাথে রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের কথা বলার চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।
গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রতিনিধি শনিবার চাপলিবাজারে এসে অতিরিক্ত চাল সরিয়ে ফেলার জন্য বলার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ সেখানে আসে। তারা মাস্টার রোলে সুবিধাভোগীদের স্বাক্ষরে অসংগতি পাওয়ায় ছবি তুলে, সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরনে অনিয়মের কথা বলে মজুদ চাল জব্দ না করেই তারাও চলে যায়। এরপর খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধি আসার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে আর কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। একাধিক ডিলারের নামে এমন অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শুধু দেখা গেছে, অভিযুক্ত ডিলারের সাথে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রভাবশালীদের প্রকাশ্য কিংবা গোপনে সাক্ষাতের দৃশ্য।
গ্রাম পুলিশ শহিদুল বলেন, আমি দু’চারটা কার্ড পরিষদে জমা দেয়ার জন্য নিয়েছি তালিকা সংশোধনের সময়। কার কার কার্ড তা মনে নেই।
খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক আরিফা সুলতানা বলেন, ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতেই চাল বিতরণ করা হয়। তবে তদারকির স্বচ্ছতা নিয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার চরচাপলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: জাকিরের সাথে মোবাইলফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো: শহিদুল হক বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা মূল্যের চাল বিতরনে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কোনই সুযোগ নেই।
– রাসেল কবির মুরাদ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com