1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আমার মেয়ের হাতের লেখা এমন নয়: বললেন গাজী নজরুলের শাশুড়ি কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন, স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন জেলা যুবদলের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে নালিতাবাড়ীতে আনন্দ মিছিল সাত জেলা ও এক মহানগরে যুবদলের কমিটি ঘোষণা ঠাকুরগাঁওয়ে মিড-ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে নালিতাবাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শ্রীবরদীতে নিখোঁজের একদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১ বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সোনারগাঁয়ে নদীতে ডুবে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, বাল্কহেডসহ আটক ৪

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে মেসি বললেন ‘উপহার’

  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ৮৬-এর ম্যারাডোনা থেকে ২৬-এর মেসির হাতে এখন আলবিসেলেস্তেদের ঝান্ডা। গোল না পেলেও দলের দুটি জয়সূচক গোলেই অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংলিশদের বিপক্ষে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেই ম্যারাডোনাকেই এই জয় উৎসর্গ করলেন লিওনেল মেসি।

ঠিক ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা এমন এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকের মতে, সেই জয় ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত আর্জেন্টাইন জনগণের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। ফলে প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, বারবারই আলোচনায় আসছিল দিয়েগোর নামটি। তাই তো শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি এই জয় উৎসর্গ করেন ম্যারাডোনাকে।

টিওয়াইসি’র সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি খেলা শেষে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। এ সময় আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো এটা দারুণভাবে উপভোগ করছে। কারণ আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। ওপর থেকে যেভাবেই দেখুক, উপভোগ করুক। এটাও ওর জন্য একটা উপহার।’

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচেই মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যারাডোনা নিজেকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে তিনি পিটার শিলটনের আগেই হাতে বল ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। এরপর খানিক বাদেই একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে, যেন ‘মহাজাগতিক ঘুড়ি’র মতো ছুটে গিয়ে করেন দ্বিতীয় গোল। সৌন্দর্য ও প্রতীকী গুরুত্ব– দুই দিক থেকেই অনেকের কাছে সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল।

ফকল্যান্ডস যুদ্ধের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রজন্মগত ব্যবধানের কারণে বর্তমান আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের কাছে সেই ঘটনার আবেগ আগের মতো নয়। তবে তারা ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেন। আর ইংল্যান্ড ম্যাচটি তাদের কাছে ছিল বিশেষ এক লড়াই। শুধু সেমিফাইনাল হওয়ার কারণেই নয়, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হওয়ায় খেলোয়াড়দের মাঝে বাড়তি অনুপ্রেরণাও কাজ করেছে।

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু ঘটেছিল। দর্শকদের গুঞ্জন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে ওঠে। তারা অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুভব করছিলাম। জানতাম এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।’

এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। আগামী রোববার দিবাগত রাতে নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। পাশাপাশি লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিজের অনন্য অর্জনের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মুখে এখন একটি গান সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, ‘ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ গোলের জন্য।’ আটলান্টার এই মহাকাব্যিক বিকেলে প্রথম দুটি পূরণ হয়েছে। শেষটি পূরণ হবে কি না, তার উত্তর মিলবে আগামী রোববারের ফাইনালে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com