
আসিফ আমানুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে। প্রকল্প দুটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮০৩ টাকা। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৬ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এ কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে কর্মহীন অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৃতপ্রায় খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ সচল রাখা এবং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশীষ কর্মকার বলেন, কইচাপুর ইউনিয়নের করইকান্দা খালটি একসময় প্রায় জলাশয়হীন অবস্থায় ছিল। পুনঃখননের ফলে খালটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাচ্ছে। প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখতে তিনি সাংবাদিকদের সরেজমিন পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
পিআইও অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কইচাপুর ইউনিয়নের ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ করইকান্দা খাল পুনঃখননে ২০৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৫ টাকা এবং নন-ওয়েজ খাতে ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৯২২ টাকাসহ মোট ৯০ লাখ ১৬ হাজার ২৬৬ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সদর ইউনিয়নের ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কচুন্দরা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২৯৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এ প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪৯ টাকা এবং নন-ওয়েজ খাতে ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পুনঃ খননে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৬ টাকা অব্যয়িত থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং অতিদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।