1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : banglar kagoj : banglar kagoj
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন বছর পর ভ্যান চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন দুই মুখ, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন নকলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ৭৮ লাখ টাকা ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব ময়মনসিংহের ডিআইজির শেরপুরে গণশুনানিতে ২১৯ সেবাপ্রার্থীকে সহায়তা ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটছিল ফেরদৌস স্টিল, জরিমানা ৫ লাখ প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন দীপু মনি, কারাফটকের সামনে মেয়ে ও আইনজীবী নিহতদের পাঁচজন বাংলাদেশি, চারজন একই পরিবারের সদস্য: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাপ্যতা ও আমাদের স্নায়ুযুদ্ধ

  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

– মনিরুল ইসলাম মনির –

সম্প্রতি নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজারস্থ নবজাগরণ একাডেমি’র ৪২ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ কিন্ডারগার্ডেন ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশন বিকেডিএ’র বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এদের ১২ জন বৃত্তি পায় টেলেন্টপুলে এবং অপর ৩০ জন সাধারণ গ্রেডে। বিকেডিএ’র নিয়মানুযায়ী টেলেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাঝে ৫শ করে এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রাপ্তদের মাঝে ২শ করে টাকা বিতরণ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। সে অনুসারে নবজাগরণ একাডেমিতে ৩০ জনের জন্য ৬ হাজার ও ১২ জনের জন্য আরও ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু বিকেডিএ তাদের কথা না রেখে থোক বরাদ্দের মতো ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এক্ষেত্রে কিন্ডারগার্ডেন এসোসিয়েশন এর পরামর্শ ছিল বাকী দুই হাজার টাকা নবজাগরণ একাডেমি কর্তৃপক্ষ নিজেদের ফান্ড থেকে ম্যানেজ করে প্রতিশ্রুত টাকার অঙ্ক ঠিক রাখতে। নবজাগরণ একাডেমি কর্তৃপক্ষ সে কথা না রেখে বিকেডিএ থেকে প্রাপ্ত দশ হাজার টাকা সমন্বয় করে উত্তীর্ণদের মাঝে বিতরণ করেন। এতে করে টেলেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের ভাগে পড়ে ৫শ টাকার স্থলে ৩শ টাকা। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে সঙ্গতকারণেই সন্দেহের অবতারণা হয় এবং আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নবজাগরণ একাডেমি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। যদিও বাস্তবে নবজাগরণ একাডেমি কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাত করেননি।

কিন্তু মফস্বলে এতবড় আয়বর্ধক একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু টাকা ভর্তুকি দিলে কি এমন ক্ষতি হতো? অন্তত আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ তো উঠতো না। কথায় আছে “অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।” শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসের পর মাস উচ্চ মূল্যের ফি যে প্রতিষ্ঠান নেয়, সে প্রতিষ্ঠান নিজেদের রেপুটেশন ধরে রাখতে সামান্যতম ছাড় দেবে না, তা কি করে হয়? বিষয়টি আত্মসাতের মতো গুরুতর না হলেও সমালোচনার যোগ্য নিঃসন্দেহে। তবে তাই বলে কাউকে সহজেই আত্মসাতকারী বানানোও অনুচিত।

এবার আসি আমাদের যুদ্ধের কথায়। যেসব সহকর্মী বিষয়টি নিয়ে খবর করেছেন শিক্ষার্থীদের পক্ষে, তারা অবশ্যই জনস্বার্থে ভালো কাজ করেছেন। তবে এর পাশাপাশি টাকা আসলে আত্মসাত করা হয়েছে, না তারা পেয়েছেন কম এবং সমন্বয় করেছেন; এ বিষয়টি খোঁজে বের করে তুলে ধরলে হয়তো খবরটি শতভাগ পুর্ণতা পেতো। তারা তা করেননি।

অন্যদিকে খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর নবজাগরণ কর্তৃপক্ষ নিজেদের সম্মান রক্ষায় প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে রাতেই তড়িঘরি করে সংবাদ সম্মেলন আহবান করেন। এখানেও তারা সাংবাদিকদের সম্মানীর বিষয়টি ভেবে ছোট আকারে গণমাধ্যমকর্মীদের আহবান করেন। যারা আগের সংবাদটি করেছেন নবজাগরণ কর্তৃপক্ষ যদি তাদেরসহ উল্লেখযোগ্য সংবাদকর্মী আহবান করতেন, তাহলে হয়তো বিষয়টি সহজ হতো। যদিও বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়।

যাই হোক, যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে সংবাদ সম্মেলন আহবান করার নৈতিক অধিকার রাখেন। শুধু তাই নয়, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তথ্য উপস্থাপন থাকলে নীতিমালা অনুযায়ী ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত প্রকাশ করা সংবাদকর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক। সে হিসেবে নবজাগরণ কর্তৃপক্ষ কিছু গণমাধ্যমকর্মী আহবান করে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। এখানে সমালোচনা বা অনৈতিকতার কোন বিষয় নেই। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি ও কৃপণতার সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু দেখা গেলো উল্টো। সাংবাদিকগণ সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে সংবাদ সম্মেলনের খবরটি প্রকাশের পরপরই কারও কারও গায়ে আগুন ধরে যায়। যা ব্যক্তিগত আক্রোশ বা নিজেদের মাঝে স্নায়ু যুদ্ধেরই সামিল। এখন শিক্ষার্থী ও নবজাগরণ এ দুটি পক্ষ কোন পক্ষ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ছে কলম যোদ্ধাদের নিজেদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ। যা লজ্জারও বটে। অথচ নবজাগরণ কর্তৃপক্ষ নিয়ে অনেক অভিযোগ-অনুযোগ আছে, সেসব নিয়ে আমরা কখনো মাথা খাটাইনি। বা সেভাবে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। উপজেলার অন্যান্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, নানাবিধ সংকট-সমস্যাও রয়েছে। সেসব নিয়ে আমরা এতোটা উঠেপড়ে লাগি না।

অন্যদিকে কিছু পণ্ডিত সাংবাদিকদের ধুয়ে দিচ্ছেন। এরা এতোটাই পণ্ডিত যে, সাংবাদিকতায় রীতিমতো ভালো পড়াশোনা করে আমাদের ছবক শেখাচ্ছেন। অথচ, খুঁচিয়ে দেখলে তাদের পেছনেও কোন কোন সমস্যা চিহ্নিত হবে। তাই বলি, আঁততায়ীর মতো আমাদের পেছনে লাগতে যাবেন না। সত্যতা অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। সংবাদ সম্মেলন আহবান করার অধিকার যেমন যে কেউ রাখেন, তেমনি সংবাদ সম্মেলনে প্রাপ্ত অর্থও গোপন কোন সন্ধী করে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন নয়। আগে জানতে হবে, তারপর মন্তব্য করতে হবে। অযথা নিজেদের বোকামী আর অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছেন কেন?

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2011-2020 BanglarKagoj.Net
Theme Developed By ThemesBazar.Com