
কুড়িগ্রাম : আজ ৭ জানুয়ারি। সীমান্তে বহুল আলোচিত কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা দিবস। আজ ফেলানী হত্যার ১১ বছর পূর্তি।
২০১১ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে নিহত ফেলানীর মৃতদেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে ছিল দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা। প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল গণমাধ্যমসহ বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ফেলানী হত্যার বিচার ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে। কিন্তু এখনো তা বিচারকার্য তালিকায় উঠেনি। ন্যায়বিচারের আশায় এখনো অপেক্ষা করছে ফেলানীর পরিবার।
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে মানবাধিকার সংস্থাসহ বহু জনের কাছে আমারা গেছি। কিন্তু ১১ বছরেও ন্যায়বিচার পেলাম না।
ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন, দুইবার কুচবিহারে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের নৃশংসতার বর্ণনা দিয়েছি। তারপরও ন্যায়বিচার পাইনি।
ফেলানী হত্যার বিচার কার্যক্রম নিয়ে কুড়িগ্রাম জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এসএম আব্রাহাম লিংকন বলেন, একাধিকবার তারিখ বদলের পর ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভারতরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন ভি রামানা ও বিচারপতি মোহন এম সান্তনা গৌদ্ধারকে নিয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য আইটেম নম্বর-৩ হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। অথচ সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিবাদীকে শোকজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা শোকজের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু পরে আর শুনানি হয়নি। বর্তমানে কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে আছে রিটটি। করোনার কারণে রিটটির সর্বশেষ অবস্থা জানেন না তিনি।
আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘আমরা বিচার প্রার্থনা করছি। বিচার হলে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করছি।’