
– মনিরুল ইসলাম মনির –
আমি একজন ক্ষুদে কলমযোদ্ধা। ২০০২ সালের আগস্টে এ যুদ্ধে নাম লেখাই আমি। ময়মনসিংহের ‘দৈনিক জাহান’ দিয়ে এসএসসি পাশের পরপরই শখের বশে লেখালেখি শুরু। এরপর কেউ একজন আমাকে বলেই ফেললেন, ‘মেট্টিক পাশ সাংবাদিক’। যদিও তখন পড়াশোনা চলছিল আমার।
যাই হোক, ময়মনসিংহের আনন্দমোহন থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং জামালপুর আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করি। এরই মধ্যে দৈনিক জাহান থেকে পর্যায়ক্রমে দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক বর্তমান, দৈনিক দিনপরিবর্তন, দৈনিক সকালের খবর, দৈনিক জবাবদিহি ও দৈনিক সময়ের আলো ছাড়াও এসএ টিভি, চ্যানেল নাইন এবং জিটিভি যুক্ত হয়েছে কাজের ঝুড়িতে। যুক্ত হয়েছে বাংলার কাগজ এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। পেরিয়ে গেছে ২৪ বছর। ঝড়-ঝঞ্জা, লড়াই-সংগ্রাম, চড়াই-ওতরাই, হামলা-মামলা, তীব্র সমালোচনা-প্রশংসা, সাফল্য- এসব কিছুই অভিজ্ঞতার ঝুড়িতে যুক্ত হয়েছে এ পেশায় এসে।
দৈনিক জাহানে কাজ করা অবস্থায় প্রেসক্লাবের সদস্য পদ পেতে কতোই না সংগ্রাম করেছি। ওই সময় দায়িত্বরত সিনিয়ররা পরশ্রীকাতর হয়েই নেননি। বাধ্য হয়ে আলাদা প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ক্লাব করেছি।
শুধু আমি নই, এম. সুরুজ্জামান, আব্দুল মোমেন, রাকিবুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আমিরুল ইসলামসহ একঝাঁক তরুণ দীর্ঘদিন ধরে প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকে কাজ করেও কেউই সদস্যপদ পাইনি আমরা। অথচ কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, ওষুধ ব্যবসায়ী, নামধারী ও কার্ডধারী অনেকেই শুধু সদস্য পদ নয়; প্রেসক্লাবের সম্পাদকমÐলিতেও স্থান পেয়েছিলেন।
সাংবাদিকতার বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২০২২ সালের ফেব্রæয়ারিতে প্রথমবারের মতো প্রেসক্লাবে ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আমি প্রার্থী হয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হলাম। তখন আমার বয়স চল্লিশ। ধরেই নিলাম, আল্লাহ এ সময়ের জন্যই হয়তো নানা ধাপে ফেলে আমাকে বঞ্চিত করেছিলেন পুর্ণতা দিতে।
চার বছর কাটালাম। যারা পরশ্রীকাতর ছিল, তাদের এক বুক ভালোবাসা হৃদয়ের গভীর থেকে দিয়েও আমি পেয়েছি সৌজন্য ভালোবাসা। প্রবাদ অনুসারে “নখ আর পিঠের মাংস কখনো এক হয় না”। শুধুমাত্র সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সবকটার নিরব বিরোধীতা করে বিশৃঙ্খলায় হাওয়া দেওয়া হয়েছে। মাঝখান থেকে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে সতীর্থ অনেকের চোখের বালি হয়েছি। প্রেসক্লাবের চৌত্রিশ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ফাণ্ড ও উন্নয়ন করতে গিয়েও কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছি। তবুও সফলতার সাথেই সেসব শেষ করতে পেরেছি। তবে মাঝেমধ্যে নানা বাধায় গতি কমে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে পারিনি।
বলতে দ্বিধা নেই, আমার আর সোহেল ভাইয়ের সময়ে যেসব কাজ হয়েছে, সে পরিমাণ কাজ করতে গেলে অনেকেরই অনেক ভাবতে হবে। কিছু ডেকোরেশন এবং চাকচিক্যে তা সম্ভব না। তবে বর্তমানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তারা অপেক্ষাকৃত ভালো করেছেন। আমাদের কাজগুলোতে আরও নতুনত্ব ফুটিয়ে তুলে প্রেসক্লাবকে আরও সমৃদ্দ এবং সৌন্দর্যমন্ডিত করেছেন।
এখন কথা হলো, ২০২২ সালে নির্বাচনের পর পুনরায় বিভাজিত দুই প্রেসক্লাবকে একীভূত করতে আমাদের এমপি মহোদয় স্বেচ্ছায় উদ্যোগী হয়ে একটি আহবায়ক কমিটি করে দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল দুই প্রেসক্লাব থেকে নেতৃত্ব তৈরি করে একটি প্রেসক্লাব গঠনে সাময়িকভাবে আহবায়ক এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা। ইতিমধ্যেই আহবায়ক কমিটি তিন মাস অতিক্রম করেছে। এমপি মহোদয়ের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী সময় হলে পরবর্তী পদক্ষেপ অবশ্যই নেবেন। তবে অবশ্যই তা হতে হবে বিতর্কের ঊর্ধে।
এবার আসি প্রতিষ্ঠাকালীন কিছু বিষয়ে। কয়েকদিন আগে আমাদের সিনিয়র সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং ওই সময়ের সভাপতি সামেদুল ইসলাম তালুকদার প্রেসক্লাবের ইতিহাস নিয়ে প্রথমবারের মতো লিখতে শুরু করেছিলন। তাঁর পরপরই বর্তমান কমিটির আহবায়ক এবং সিনিয়র সাংবাদিক বিপ্লব দে কেটু কয়েক পর্বের ইতিহাস লিখতে গিয়ে অনেক স্মৃতিচারণ করলেন। কিন্তু হঠাৎই রহস্যজনকভাবে সেসব লেখা থমকে গেল। আমরা পরবর্তী প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম, সে অপেক্ষার প্রহর যেন হঠাৎ দ্বৈব-দুর্বিপাকে দাড়িয়ে গেল। কেন দাড়িয়ে গেল, নাকি পথ পরিবর্তন করল- এসবের কিছুই জানি না।
আশাকরি, আমাদের দুই অগ্রজ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রেসক্লাবের প্রকৃত ইতিহাস জনসম্মুখে তুলে ধরবেন। কারণ, এ একটি মাত্র কারণে আমাদের সময়ে আমরা প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে অনার বোর্ড স্থাপন করতে পারিনি। যা আগেও ছিল না।